লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ হুড়ুমদুড়ুম নয়

গোবিন্দ ধর 

তিরিশ বছরের সম্পাদনার অভিজ্ঞতায় কারো লেখা আমন্ত্রণ করে নিলে তা কোথাও না কোথাও ছেপেছি।এমন কি অন্য সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদকের আমন্ত্রিত লেখাও দায়িত্ব নিয়ে ছেপেছি।পরবর্তী সময় কবি লেখকদের সৌজন্য সংখ্যা পৌঁছে দিয়েছি ডাকঘর মাধ্যমে অথবা  হাতে তুলে দিয়েছি।এমনও আছে নিজ খরচায় স্পিরিট পোস্ট ডিটিডিসি প্রফেশনাল ক্যুরিয়ারেও সৌজন্য সংখ্যা পৌঁছে দিয়েছি। একজন সম্পাদক হিসেবে সফল কতটুকু কখনোই পরিমাপ করিনি।সম্পাদকের দায়িত্ব মনে করেছি।
স্রোত প্রকাশনা থেকেও সম্পাদিত কাব্য সংকলন গলৃপ সংকলন ঠিক একই রকম পৌঁছে দিয়েছি।সে একেকটি সংখ্যা ৬০০ শত টাকা হলেও সৌজন্য সংখ্যা হিসেবেই লেখক কপি পৌঁছে দিতে কার্পন্য করিনি।সংককনের বেলায়ও একই নিয়ম কার্যকর রেখেছি।
একজন লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদকের এই দায়িত্ববোধ থাকা সৌজন্যতাই।দায়িত্বশীলতাও।
এঝন নতুন ফ্যাশন।লেখা ছেপে আর সৌজন্য সংখ্যা পাঠানোর সম্পাদকীয় দায়িত্ব সম্পাদক পালন করতে হয় না।
আমন্ত্রণ করে লেখা নিলে যদি সম্পাদকের লেখা অপছন্দ হয় তো তা লেখককে জানানো প্রয়োজন। একজন নব্য সম্পাদক এখন আর তাও করেন না।
সস্তা সাহিত্য বাজার এখন।সম্পাদকের খরচাও অনেকটা কমেছে।
ছাপা লিটল ম্যাগাজিনের পরিবর্তে এখন অনলাইন ব্লগে অনলাইন পত্রিকা প্রকাশ করা যায়। সম্পাদকের শ্রম কমেছে। খাটাখাটুনি করতে হয় কম।
আমাদের সম্পাদকীয় হাত মস্কের সময় এখনের মতো সহজ ছিলো না ছাপাছাপি। তখন লেটার প্রেস।ছাপার অনেক ঝুটঝামেলা। প্রুফ দেখতে হতো অনেকবার। তাও সম্পাদকেরা তাদের দায়িত্ব পালন করতেন। সৌজন্য সংখ্যা লেখকের বাড়ির ঠিকানায় পাঠাতেন। আমন্ত্রিত লেখা কখনো বাতিল হলে লওটল ম্যাগাজিন সম্পাদক জানিয়ে পরবর্তী লেখার আমন্ত্রণ করতেন।এখনের মতো তখন সহজলভ্য ছিলো না যোগাযোগ। যোগাযোগের মাধ্যম ছিলো পোস্ট অফিস। তাও একেক পর্বের চিঠির আদান প্রদান সময় লাগতো।কিন্তু সম্পাদকেরা দায়িত্বশীল ছিলেন।
এখনের মতো সম্পাদকদের সহজ পদ্মতিতে সম্পাদক হয়ে ওঠা সহজ ছিলো না।অথচ নিপুণ দক্ষতা ছিলো এক একেকজন সম্পাদকের।
লিটল ম্যাগাজিন কোনো প্রতিষ্ঠান নয়।কিন্তু প্রতিষ্ঠানের থেকে অনেক বেশি দায়িত্ববোধ ও মেরুদণ্ড টানটান ধনুকের মতো থাকতে হয়।রাখতে হয়।নয়তো এতো এতো কাজ থাকতে একজন লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদক কেন লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনে সামিল হলেন?
লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদক হওয়া কি সাহিত্যের সুবিধা গ্রহণ করার কৌশল অবলম্বন শুধুই? নিশ্চয়ই নয়।কিন্তু হুড়হুড় করে লিটল ম্যাগাজিন নাম ধারী অনেক লিটল ম্যাগাজিনের জন্ম হচ্ছে। কারো মৃত্যু আবার আঁতুড় ঘরেই।তবুও হচ্ছে। কিন্তু লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদকদের নূনতম সৌজন্যবোধ থাকতে হবে।
আর কি কি থাকা চাই-ই চাই? 
(১)অব্যশই আমন্ত্রিত লেখা ছাপা প্রয়োজন। অপছন্দ হলে পুনরায় লেখা গ্রহণ করতে হবে। 
(২)সৌজন্য সংখ্যা অবশ্যই লেখকদের নিকট পাঠাতে হবে। 
(৩)সৌজন্যবোধ থাকা জরুরী। 
(৪)একটি লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ করার নানা ধাপ সম্পর্কে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।
(৫)প্রুফ কারেকশন জানা জরুরী। 
(৬)কম্পিউটার লেপটপ ডিজাইন করা সম্ভব হলে ডিটিপি এমন কি প্রচ্ছদ সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা থাকতে হবে।
(৭)বাঁধাই কিরকম করা কোথায় হয় এসব সম্পর্কে সম্যক একটি আবছা ধারণা থাকা প্রয়োজন। 
(৮)পাশাপাশি লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদকের পাঠক তো হতেই হবে। নয়তো সাপব্যঙ ছাপলেই একটি সাহিত্য পত্রিকা লিটল ম্যাগাজিন হয়ে ওঠে না।
সুতরাং অহংকার ঝেড়ে ফুলুন।বাজারী সম্পাদক নয়।সিরিয়াস সম্পাদক হওয়ার জন্য তৈরী হতে হবে।
বিষয় ভিত্তিক সংখ্যা করার নানা পরীক্ষা নিরীক্ষাও একজন লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদকের করায়ত্ত থাকা জরুরি। নয়তো লিটল ম্যাগাজিন কতগুলো লেখা সংগ্রহ করে হুড়ুমদুড়ুম করে ছাপিয়ে দিলেই লিটল ম্যাগাজিন হয়ে যায় না।
অনলাইন ও অব লাইন দুধরনের লিটল ম্যাগাজিন সম্পর্কে কিছু কিছু বিষয় ব্যতীত মূল ভাবনা একই।

২৯:০৯:২০২৩
রাত:১১টা
কুমারঘাট। 
 পাশাপাশি