কাছাড়িছড়ার ইতিবৃত্ত 

গোবিন্দ ধর 

কুমারঘাট থেকে ধর্মনগর যাওয়ার সময় আসাম আগরতলা জাতীয় রাস্তায় সিদং  ছড়া অঞ্চলে কাছাড়িছড়ার পাকাব্রীজ পাওয়া যায়। কুমারঘাট থেকে তাঁতিপাড়া হয়ে শিবথলী পেরিয়ে বি এস এন এল অফিস ডান দিকে রেখে কাছাড়িছড়া সহজে পৌঁছা যায়।কুকিটিলা থেকে কলকল প্রবাহিত ঝর্ণার মতো সুরু যে প্রবাহ তা হলো কাছাড়িছড়া।জনশ্রুতি অনুসারে এখানে কুকিরা বসবাস করতেন। তারা রাজমালার বর্ণনানুসারে ভয়ংকর জনজাতি। তাদেরকে ত্রিপুরার রাজারা সৈন্য বিভাগে নিয়োগ দিয়েছিলেন।সে অনেক কাহিনী।এখন কুকিরা হালাম বা হিড়ম্ব হিসেবে পরিচিত।মূলত দারচৈ এ ডি সি ভিলেজ থেকে কাছাড়িছড়ার উৎপত্তি স্থল।
এই অঞ্চলের গভীর বনভূমি তৃণ আচ্ছাদিত অন্ধকারময় গুহা ডিঙিয়ে ছড়াটি সিদং এর পাশ ঘেসে দেওনদে মিশে গেছে। 
ক্যান রোড হয়েও কাছাড়িছড়া যাওয়া যাবে। এখানে অলীক বিশ্বাসে কেউ কেউ ছড়াটি থেকে পাথরের নানা আকার সংগ্রহ করে কুকিটিলায় পুঁতে রেখে ভক্তিভরে পুজো অর্চনাও করেন।যদিও সে এক অন্য বিষয়। সে প্রসঙ্গে আলোচনা আজ নয়।
কুকিটিলা থেকে বৃষ্টি হলে জল লাফিয়ে লাফিয়ে নামে।সারাক্ষণ বনাঞ্চলে ঢাকা গভীর অন্ধকারময় বহু পথ অতিক্রম করার সময় জলের তোড়ে পাথরের নানা রূপ তৈরি হয়েছে সে আমিও নিজ চোখে পরখ করে বুঝেছি।কিন্তু ধর্ম বিশ্বাসীদের নিকট এই প্রাকৃতিক আকার বা রূপগুলোই ঈশ্বরের অলৌকিক শক্তি। কিন্তু প্রকৃতির রুদ্র রোষানলে পাথরগুলোর উপর দিয়ে দীর্ঘ সময় জল প্রবাহিত হয়ে একেকটি পাথরের নানান রূপে বদলকে ঈশ্বর বিশ্বাসীরা শিবজ্ঞানে পুজোর্চনা করেন।সে তো আছেই।
পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং এই ছড়াটি ট্যুরিস্টদের জন্য যাতায়াতের সুবিধা করে দিলে এখানেও গড়ে উঠতে পারে একটি পর্যটন কেন্দ্র। যা সরকারের আর্থিক তহবিলে শুল্কবৃদ্ধি ঘটবে।পাশাপাশি কাছাড়িছড়াকে কেন্দ্র করে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে ওঠা সম্ভব। কাছাড়িছড়া যাওয়ার সময় পাশেই মা ভবতারিণী মন্দির। এখানে শিবচতুর্দশীতে পাঁচদিন ব্যাপী মেলা ও উৎসব বসে।স্থানীয় ও ত্রিপুরার নানা প্রান্তের ধর্মপ্রাণ লোকজন আসেন। পসরা সেজে তুলেন ব্যবসাহিরা।একটু অদূরবর্তী অঞ্চলে শিবথলী।বৌদ্ধ মঠ।সব মিলে অঞ্চলটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। 
এখানে চাকমা, তাঁতি, হালাম, গোয়ালা,হিন্দু, খ্রিস্টান মিলে মিশে বসবাস করেন। 
সব দিক দিয়ে কাছাড়িছড়া বাঁশবাগান শিবথলীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে পারে সুপরিকল্পিত ইকোপার্ক। 

২২:০৩:২০২৪