ঝুরিছড়া:অকথিত উপাখ্যান 

গোবিন্দ ধর 

১৯৮৮ সালের আগে আমি জানতামই না ঝুরিছড়া নামে একটি অঞ্চল থেকে ঝুরিছড়া প্রবাহিত হয়ে পশ্চিম রাতাছড়ায় মিশেছে।ত্রিপুরায় দীর্ঘ দশ বছর বামফ্রন্ট সমর্থিত সরকার পরিচালিত হয় ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৮ পর্যন্ত।তারপর ১৯৮৮ সালের বিধানসভায় ভোটার উপজাতি টি ইউ জি এস ও কংগ্রেস জোট সরকারের পক্ষে ভোট না দিলেও ফটিকরায়ের উপনির্বাচন জোট সরকার সন্ত্রাসকে হাতিয়ার করে ফটিকরায় উপনির্বাচনে জয়লাভ করে। প্রার্থী তৎকালীন বিধায়ক তরুণীমোহন সিনহার আকস্মিক দুঃঘটনায় মৃত্যু বরণের ফলে উপনির্বাচন হয় ফটিকরায়।
সেই নির্বাচন শেষে প্রায়ই লেগে থাকতো উত্তেজনাকর বনধ।এরকমই এক বনধকে কেন্দ্র করে ঝুরিছড়া রাজনৈতিক হিংসায় জ্বলতে থাকে।ঠিক সে সময় আমি নবমশ্রেনীতে রাতাছড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। 
সকাল সকাল লোকমুখে ঝুরিছড়ার রাজনৈতিক হিংসার বাতাস এসে পশ্চিম রাতাছড়া পেরিয়ে পূর্ব রাতাছড়ায় নানা গুঞ্জন শুরু হয়।কেউ কেউ উগ্রবাদীর তান্ডব চলছে বলেও প্রচার করে বসেন।তারপর বাড়িঘর ছেড়ে লোকজন পশ্চিম রাতাছড়া থেকে জনস্রোতের মতো যে যা সামনে পেয়েছে নিয়ে আসতে শুরু করে।প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা বিরত হলেও জনজাতি ও অন্যান্য জাতির মধ্যে দীর্ঘ সময় ছিলো সম্প্রীতির ফাটল।
মূলত ঝুরিছড়া মানে অনেকগুলো ছোট ছোট প্রবাহিত জলধারা নামতে নামতে একটি ছড়ার জন্ম হয়।এ থেকেই ঝুরিছড়া নামে ছড়াটিকে লোকজন চিহ্নিত করে। 
ঝুরিছড়ার উৎস থেকে প্রবাহিত জল এসে পশ্চিম রাতাছড়ায় মিশে গেছে। ঝুরিছড়ায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে।নাম পশ্চিম রাতাছড়া নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয় হলেও তা ঝুরিছড়ায় বিদ্যমান।
এন ই সি রাস্তা তৈরীর ফলে ঝুরিছড়ার লোকজনও কৈলাসহর, ফটিকরায় ও কুমারঘাটে যাতায়াত সহজ হয়েছে। 

২৬:০৩:২০২৪

0 Comments