স্রোতের স্রষ্টা গোবিন্দ ধর

নিয়তি রায়বর্মণ

সংস্কৃতিমনষ্ক নাট্যজন দক্ষিণারঞ্জন ধর ও সুষমারাণির পুত্র গোবিন্দ৷ ঠাকুরদা দেবেন্দ্রনাথ ধর ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও শিক্ষানুরাগী৷ তিনি অধুনা বাংলাদেশের মৌলভীবাজার মিঞাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন৷ ১৯৫১ সালে দক্ষিণারঞ্জন পিতা দেবেন্ত্রনাথের হাত ধরে অমর মাণিক্যের স্মৃতিধন্য রাজধর মাণিক্যের রাজ্যাভিষেক প্রাপ্ত বর্ধিষ্ণু জনপদ রাতাছড়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন৷ বংশানুক্রমিকভাবে এই পরিবারটি কুসংস্কারমুক্ত এবং মানবিক নানা গুণে সমৃদ্ধ৷‘Plain living high thinking’ নীতিতে বিশ্বাস রেখেই এগিয়ে চলেছে এই পরিবারের পাঁচ প্রজন্মের প্রতিনিধিগণ৷
গোবিন্দরা ছিল আট ভাই বোন--- তিন ভাই ও পাঁচ বোন৷ মা-বাবাসহ দশজনের পরিবার৷ ছোটবেলা দারিদ্র্য অনাহার অনটনের সাথে যুঝে বেড়ে ওঠা৷ ঢেকিতে ধান ভানা, গরু মোষ চড়ানো ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী৷
পিতা দক্ষিণারঞ্জন ধরের বদলির চাকরি৷ তিনি ফটিকরায় দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করে প্রথমে ডাকপালের চাকরি পান৷ এরপর শিক্ষা দপ্তরে যোগদান করেন৷ ধর্মনগর অফিসটিলা বিষকেতু নাথের ভাড়া বাড়িতে গোবিন্দের জন্ম ৩০ জুলাই ১৯৭১ সালে৷ তিন বছর বয়স কালে পিতামাতার হাত ধরে পৈত্রিক বাড়ি রাতাছড়ায় আসে৷ রাতাছড়া হাইস্কুল থেকে ১৯৯০ সালে মাধ্যমিক পাস--- আর ৩০ মে বাবা প্রয়াত হন৷ আগস্ট মাসে একাদশ শ্রেণিতে কাঞ্চনবাড়ি দ্বাদশশ্রেণি বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়৷ পরের বছর ১৯৯১ সালের ১৫ জুলাই বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়৷ পরের বছর ১৯৯১ সালের ১৫ জুলাই শিক্ষকতার চাকরিতে যোগদান৷ সরকারি আদেশ না থাকায় এইচ.এস পরীক্ষায় বসা হয়নি৷ পরের বছর ১৯৯২ সালে ফটিকরায় উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এইচ.এস উত্তীর্ণ হয়৷
পাশাপাশি চলছে সাহিত্যচর্চা, অভিনয়, নাটক লেখা৷ মাতা সুষমারাণী ধরের মৃত্যু ১৯৯৬ সালে হলে গোবিন্দ দৃশ্যত ভেঙ্গে পড়ে৷ ১৯৯৮ সালের ৪ মে সুমিতা পালের সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হয়৷ পরের বছরই ১৯৯৯ সালের ২ মে গোবিন্দ ও সুমিতার ঘর আলো করে পুত্র গৌরব আসে৷ সে ত্রিপুরা সরকারি আর্ট কলেজের ছাত্র৷ তার আঁকা ছবি ইতিমধ্যেই বেশ পরিচিতি লাভ করেছে৷
২০০৩ সাল থেকে কুমারঘাটের হালাইমুড়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে গোবিন্দরা৷ রাতাছড়া, দেও-মনু নদী দিয়ে বহু জল এবং স্রোত বিলীন হয়েছে কাল গহ্বরে৷ কিন্তু ‘স্রোত’ সাহিত্য পত্রিকা গোবিন্দের জীবনে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে সেই ১৯৯৫ সাল থেকে যেটি এ বছর রজত জয়ন্তীতে পদার্পণ করল৷ এই সাময়িকীর হীরক দ্যুতি বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে--- ভিন রাজ্যে ও ভিন দেশে৷ বিভিন্ন সাহিত্য সমাবেশে ‘স্রোত’ সম্পাদক গোবিন্দ ধর আমন্ত্রিত হচ্ছে ও অংশগ্রহণ করছে৷ তার কন্যা গৈরিকার জন্ম পরের বছর ২৪ অক্টোবর ২০১০-এ৷ সে মা-বাবার স্নেহছায়ায় বেড়ে উঠছে সাবলীলভাবে৷ 
গোবিন্দদের বা স্রোত পরিবারের কর্মকাণ্ডের যথার্থ জরিপ করা আমার পক্ষে আগরতলায় থেকে দুষ্কর৷ যা পরখ করতে পেরেছি লিখছি৷ ‘স্রোত’ এর প্রকাশনা শুরু হয়েছিল ১৯৯৫ সালে, তারপর পুত্র গৌরবের দ্বিতীয় জন্মদিন থেকে প্রকাশ হচ্ছে ‘কুসুম’৷ ‘দোলনা’ প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালে আট বছরের শিশুকন্যা গৈরিকার সম্পাদনায়--- যার প্রচ্ছদটি এঁকেছে দাদা গৌরব৷ প্রচ্ছদে ছোট্ট গৈরিকার দোলনায় ছড়া ছবি- অসাধারণ হয়েছে৷ ‘কবিতাঘর’ কবিতার পত্রিকাটি প্রকাশিত হচ্ছে ২০০৭-র জুলাই থেকে৷ ‘বইবাড়ি’ প্রকাশনার কাজ শুরু করে ২০১৪ থেকে৷ আর প্রথম পত্রিকা ‘বইবাড়ি’র প্রকাশ ঘটে ২০১৮-য়৷ এই কাগজটি গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করে৷ সাহিত্যের ক্ষেত্রে এ কাগজটিও একটি অভিনব বিষয় এবং গুরুত্বপূর্ণ তো বটেই৷ স্রোত পরিবারের আরও একটি প্রকাশনা আছে--- ‘অন্যপাঠ’৷ মোট তিনটি প্রকাশনা সংস্থা তাদের৷
স্রোত  প্রকাশনার একটি অত্যন্ত মূল্যবান ও গঠনমূলক কাজ ‘উদ্দীপ্ত সংগ্রহশালা’৷ এটির আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৯৫ সালের ২৬ সেপ্ঢেম্বর৷ এখানে যাবতীয় লিটল ম্যাগাজিন, পুস্তক-পুস্তিকা সংরক্ষণ করে রাখা হয়৷ এটি গবেষকদের অত্যন্ত উপকার আসবে৷ পান্ডুলিপিতে সংরক্ষণ করা হয়৷ এগুলি নিয়ে গবেষণার সুযোগ রয়েছে৷
কর্মপাগল গোবিন্দ অসাধারণ নিষ্ঠা নিয়ে কাজ করে৷ কাজ না থাকলে ভালো ঢাগে না৷ নতুন কী করা যায়--- এ নিয়ে সর্বক্ষণ ভাবে৷ যেমন নতুন নতুন বই ছাপে তেমনি নতুন নতুন কি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যায়৷ ভাবনা অনুযায়ী বাস্তবে রূপদান করে সফলভাবে৷ লিটল ম্যাগাজিন উৎসব, ভাষা উৎসব, ছড়া উৎসব, অণুগল্প, বসন্ত উৎসব, কবিতা উৎসব, গ্রন্থ প্রকাশ অনুষ্ঠান, স্রোতের রজত জয়ন্তী বর্ষ উদযাপন ইত্যাদি৷ অসীম ধৈর্য্য দিয়ে স্মিতহাসি মুখে সকলকে নিয়ে চলার এক অদ্ভুত কৌশল রয়েছে এই কবি গবেষক প্রকাশকের৷ তার যোগ্য সহযোগী স্ত্রী পদ্মশ্রী৷ অর্ধাঙ্গিনী সুমিতা পাল চৌধুরীর রয়েছে কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগ৷ যে কোন ধরনের সাহিত্য কর্ম সমাধানের লক্ষ্যে বহু ধরনের ব্যক্তি স্বার্থ বা পারিবারিক স্বার্থ হেলায় ত্যাগ করতে পারে স্রোত পরিবার৷ জানা যায় সূচনা পর্বে প্রকাশনার জন্য দুধেল গাই পর্যন্ত গোবিন্দ বিক্রি করে দিয়েছিল৷ একেবারে অজ পাড়া গাঁ যেখানে ছাপানোর সামান্যতম কোন পরিকাঠামো ছিল না--- সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তাকে কতটা পরিশ্রম করতে হয়েছে৷ তদুপরি গোবিন্দ ব্যক্তিগত জীবনে একটা সুমহান আদর্শের প্রতি নিবেদিত প্রাণ৷ ‘শব্দশ্রমিক’, ‘কথা শ্রমিক’, ‘অক্ষরশ্রমিক’ ইত্যাদি শব্দবন্ধগুলো তার মুখেই মানায়৷ ‘আত্মজীবনী-১’ কবিতায় গোবিন্দ লিখেছে---
‘‘সেলাই রিপু আর জোড়াতালির সংসারে
আমি তৃতীয় পান্ডব৷
সারাক্ষণ পার্থের ভূমিকায়
থেকেও একটি পরিবারের
স্লোগান শিখি৷ পাঠ নিতে নিতে
জরুরি পতাকা আঁকড়ে বেঁচে আছি৷’’
কবি গোবিন্দ অন্যত্র দৃঢ়তার সঙ্গে প্রকাশ করে ঃ
‘‘এইসব মন্দির মসজিদ থেকে
কবেই সরিয়ে নিয়েছি নিজেকে
আমি বামপন্থী
বামদর্শন আমার মুক্তির পথ৷’’
নিজের লেখালেখির চেয়ে উৎকৃষ্ট গ্রন্থ প্রকাশেই বেশি আগ্রহী৷ পাশাপাশি নবীন লেখক সৃষ্টি করা৷ উৎকৃষ্ট প্রকাশনার জন্য ইতিমধ্যে বেশকিছু পুরস্কার স্রোত প্রকাশনা পেয়েছে৷
সম্পাদনা করেছে বহু গ্রন্থের৷ উত্তর পূর্বাঞ্চলের চল্লিশজন কবির কবিতা নিয়ে ‘মেঘ বৃষ্টি রোদ’ সংকলনটি বের হয় ২০০১ সালে৷ যৌথ ছড়া সংকলন ‘এই শতাব্দীর ছড়া’৷
গোবিন্দের কবিতা, গদ্য বা গবেষণাধর্মী লেখা সবই মাটির কাছাকাছি৷ সাধারণ মানুষকে কেন্দ্র করে--- সাধারণ মানুষের চাওয়া পাওয়া, না পাওয়া ইত্যাদি চিরন্তন বিষয় নিয়ে লেখা৷ কোন অবাস্তব অলীক বিষয় আকড়ে নয়৷ ফলে তার সৃষ্টি কর্ম গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে৷ কোথাও আবার স্থান কালের দলিল হয়েছে৷
গোবিন্দ শুধু যে সাহিত্যকে ভালোবাসে তা নয়৷ কবি সাহিত্যিকদের ভালোবাসার নিদর্শন স্বরূপ সম্মাননা প্রদান করে৷ ‘স্রোতস্বিনী’ থেকে ‘স্রোত’ এর দীর্ঘ পরিক্রমায় এর উজ্জ্বল সাক্ষর রেখেছে৷ পরিবারকেও গুরুত্ব দেয়৷ পূর্বপুরুষ ও পূর্বনারীর ঋণ কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করে তাঁদের নামে পুরস্কার প্রদান করে বা অনুষ্ঠান মঞ্চ নির্মাণ করে৷ মা (সুষমারানি ধর) বাবা (দক্ষিণারঞ্জন ধর), ঠাকুরদা (দেবেন্দ্রনাথ ধর), ঠাকুরমা (সরোজিনী ধর) এবং ঠাকুরদার পিতা দীপরাম ধর--- এই পাঁচটি পারিবারিক পুরস্কার৷ পারিবারিক গুরুজন এবং গুণীজনদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত বিনীত ও নিপুণভাবে তুলে ধরার প্রয়াস মুগ্দ করে৷
‘স্রোত’ সাহিত্যপত্র গুণীজনদের নিয়ে বিশেষ সংখ্যা বের হয়েছে৷ স্রোত সত্তরে ওপর সংখ্যা বেরিয়েছে৷ বিশেষ সংখ্যা  যেমন হয়েছে তেমনি বিশেষ সংখ্যার পরিকল্পনাও রয়েছে। 
‘কবিতাঘর’ অনুধর্ব চল্লিশের বাংলা কবিতা বিভিন্ন পর্বে যেমন ‘ত্রিপুরা’ বা ‘বরাক’ বিষয়ভিত্তিক কাজ হয়েছে৷ ২০০৯ সালের স্রোত সংখ্যায় মণিপুরি সাহিত্যের বাংলা অনুবাদ এবং সেইসঙ্গে মণিপুরি নৃত্য নিয়ে বিশিষ্টজনদের কিছু প্রবন্ধ প্রকাশ হয়েছে৷ ‘দোলনা’র পরের সংখ্যার বিষয় ‘পিঁপড়া’৷ পারিবারিক শিশু পত্রিকাটি বিষয় বৈচিত্র্যে যেমন অভিনব তেমনি প্রশংসনীয়৷ গোবিন্দ সোস্যাল মিডিয়াতে বেশ সক্রিয়৷ কুমারঘাটে ছোটদের মূল্যবোধ ও সাংসৃকতিক মটিভেশান দেওয়া হবে প্রতি মাসে একদিন--- এরকম একটা চিন্তা ভাবনা গোবিন্দের মাথায় এসেছে৷ এ খবরটি সোস্যাল মিডিয়াতেই দেখেছি৷
গোবিন্দ নিজের লেখালেখির সাথে প্রকাশনায়ও বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে--- মনে হয় বেশি৷ এর ফলশ্রুতিতে ভালো কাজের স্বীকৃতি পেয়ে চলেছে৷ ২০০৮ সালে বইমেলায় প্রয়াত কবি হিমাদ্রি দেবের কাব্যগ্রন্থ ‘বৃষ্টিজল’ ত্রিপুরা সরকারের সুকান্ত পুরস্কারে ভূষিত হয়৷ ২০১০ সালে শ্যামল ভট্টাচার্যের ‘লোদ্রভার কাছাকাছি’ উপন্যাসটি পশ্চিমবঙ্গ সরকাারের বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হয়৷ ২০১৪ সালের বইমেলার তিমিরবরণ চাকমা অনুদিত চাকমা ভাষায় ‘গীতাঞ্জলি’ ও ২০১৯ সালের বইমেলায় সেবিকা ধরের ‘‘মানবী বিদ্যার আলাকে নারী এক ভিন্নমাত্রিক পাঠ’’ গ্রন্থটি প্রকাশের উৎকর্ষতার জন্য ত্রিপুরা সরকারের শ্রেষ্ঠ প্রকাশনার পুরস্কার লাভ করে স্রোত প্রকাশন তথা গোবিন্দ ধর৷
রাজ্য বর্হিরাজ্য এবং বাংলাদেশের নানা পত্রিকায় ও সাময়িকীতে অগণন লেখা প্রকাশ হয়েছে৷ তার সব পদ্য গদ্য বা প্রকাশিত গ্রন্থের সাথে পরিচিত হতে পারিনি৷ গোবিন্দের বিশেষত্ব হলো লেখকদের বিভিন্ন বিষয়ের গ্রন্থ প্রকাশ, সাহিত্য সাময়িকী প্রকাশ এবং সাহিত্যের নানা আঙ্গিকের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বেড়ে উঠলেও শিক্ষানুরাগী পারিবারিক পরিমণ্ডলের সুবাদে কৈশোর থেকে কবিতা, নাটক লেখা ও অভিনয়ে ঝোঁক ছিল৷ সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি প্রকাশনা নিরবচ্ছিন্ন রেখেছে--- যা এক অসাধ্য কাজ গোবিন্দ করে চলেছে৷ বিভিন্ন লেখকের বই নিয়ে ছোটে আগরতলা, কলকাতা, দিল্লি, ঢাকা বইমেলায় এবং আরো অন্যত্র৷ তার পরিশ্রম এবং উদ্যম মুগ্দ করে৷ স্রোতের বিপরীতে এবং প্রতিকূল অবস্থায় এত অল্প সময়ে কাজের এত বিস্তার সচরাচর দেখা যায় না৷ যাবতীয় তথ্য অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে গবেষকের মতো লিপিবদ্ধ রাখতে পারাও একটা ধৈর্য্য ও নিষ্ঠার বিষয়৷ গোবিন্দের কার্যের ধারা শতপুষ্পে প্রস্ফুটিত হোক৷
প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট ইত্যাদি জায়গা থেকে আমন্ত্রিত হয়ে বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক সম্মানিত হয়েচে--- যা স্বল্প পরিসরে উল্লেখ করা গেল না৷

0 Comments