নতুন সম্পাদকদের জন্য একটি আলোচনা গোবিন্দ ধর
নতুন সম্পাদকদের জন্য একটি আলোচনা
গোবিন্দ ধর
ইরম বিপণি বিতান
দোকান খুলেছি আমি, নিজ নামে, তোমার তল্লাটে। এই বার যেন আমি তোমার প্রশ্রয় পাই। নানা নামে খুলে খুলে বার বার ফতুর হয়েছি। তবু আমি খুলে রাখি বিপণি বিতান। যথারীতি দিবারাত্রি খোলা রাখি, যেন তুমি খরিদ করিতে আসো, যেন তুমি বাকিতে খরিদ করো বাসনা আমার। কতো করে করেছি প্রচার, যেন তুমি রোজ রোজ দেখে নিতে পারো। নগদে বিশ্বাস নাই। চাহিবা না। লজ্জা পাবো খুব। আমি তো বিকাতে চাই বিনা মূল্যে, কেবলি বাকিতে। যা কিছু কামাই, রাত জেগে লিখে রাখি বাকির খাতায়। যদি তুমি কোনো দিন খুলে দেখো পাতা, আয়ু দিয়ে লেখা এই রক্তাক্ত অক্ষর।
আর তো নতুন কিছু চাহিবার নাই। কোথাও কোনো শাখা নাই, মনেতে রাখিও। সকালে বিকালে তুমি দোকানে আসিও।
--মুজিব ইরম।
একটি প্রতিবন্ধী শিশুর জন্ম দিতেও পারেন আবার একটি সুঠাম পূর্ণ অবয়ব শিশুও জন্ম দিতে পারেন সে আপনি পিতা বা মাতা হিসেবে সঠিক সুশীল শিক্ষিত না হলে অসম্ভব।
বিজ্ঞাপন হলেও সত্যি :আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন
নতুন লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদকদের সুবিধার জন্য প্রিন্ট খরচার একটি আনুমানিক হিসাব
(১) ৪ পৃষ্ঠার একটি লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ সাদাকালো প্রিন্ট :১০০.০০ -৫ কপি।৫০ কপি প্রিন্ট খরচা:১০০+২০০=৩০০.০০
(২) ৮ পৃষ্ঠার একটি লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ সাদাকালো প্রিন্ট :২০০.০০ -৫ কপি।৫০ কপি প্রিন্ট খরচা:২০০+৪০০=৬০০.০০
(৩) ১৬ পৃষ্ঠার একটি লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ সাদাকালো প্রিন্ট :৪০০.০০ -৫ কপি।৫০ কপি প্রিন্ট খরচা:৪০০+৮০০=১২০০.০০
প্রিয়জন
নতুন একজন লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ করতে আগ্রহী করতে নানা রকম আলোচনা করে একটুকু হিসেবেও লিটল ম্যাগাজিন করা যায় সে হিসেব তিরিশ বছর লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের শরিক আছি নিশ্চিতভাবেই আমি জানি।
আমি বুঝিও।কিন্তু আপনার লিটল ম্যাগাজিন তো আপনার সন্তানের মতোই। আপনার সন্তান ভূমিষ্ট করাবেন প্রতিবন্ধী? একজন পিতা হিসেবে একজন মাতা হিসেবে নিশ্চয়ই আপনি চাইবেন না।যদি চান তাহলে নিশ্চিত আপনি একজন পিতা হওয়ার মাতা হওয়ার উপযুক্ত নয় সে হলফনামা দেওয়া কঠিন নয়।
আমরা যারা মা বাবা সকলেই চাইবো ২০২৪ সালে একটি শিশু জন্ম নিলে সামগ্রিকভাবে সে যেন সক্ষম সুঠাম পূর্ণ অবয়ব ও ঠিকঠাক সুগঠন নিয়েই জন্মগ্রহণ করুক।নয়তো এই সময়ের সমস্ত টিকা পুষ্টি সরবরাহ থেকে বঞ্চিত রেখে একজন শিশুর জন্মগ্রহণ না করানোই কাম্য। সে বিষয়ে একজন পিতামাতা সচেতন থাকা জরুরী।যদি পিতা হিসেবে মাতা হিসেবে সে বিষয়ে অবগত না হয়ে থাকেন তাহলে পূর্বজদের দায়িত্ব কর্তব্য হলো নতুন মা ও বাবাদের শিশুটি প্রসবের পূর্বেই পূর্ণ সুশিক্ষা প্রদান করা। নয়তো সামাজিক দায়িত্বশীলতারও অভাব সমাজে তা-ই উপলব্ধি হয়। প্রতিবেশী হয়েও প্রতিবেশীসুলভ আচরণ করছেন না তা অনুমেয় হয়।
প্রকৃততথ্য বনাম সময়ের খরস্রোত
প্রকৃত বিষয় হলো একটি লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ যে কতভাবে সম্ভব সে বিষয়ে একজন প্রকৃত লিটল ম্যাগাজিন বন্ধুই অবগত থাকেন।কিন্তু নবাগত লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদক সে বিষয়ে অবগত থাকেন না।সেই জায়গায় দলভুক্ত করার জন্য লিটল ম্যাগাজিন করানোর পরিকল্পনা করলে আমার বিজ্ঞাপন হলেও সত্যি :আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন একটুই যথেষ্ট।
কিন্তু প্রকৃত লিটল ম্যাগাজিন বন্ধু আপনাকে ভুলভাল হিসাব দিয়ে দলদাস বানানোর প্রয়োজন নেই। কারণ লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদনা করার আগে সামান্য জ্ঞান বা সামান্য বিশ্বাস দুটোর একটি আপনার ঘিলুতেও থাকতে হবে। নয়তো আপনাকে প্রকৃত বিষয় উপস্থাপন করলেও প্রকৃত বিষয় উপলব্ধি করতে পারবেন না।কারণ আপনি জানেন না একটি লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ করতে হলে চাই একটি নামলিপি।
নামলিপি:
নামলিপি কি খায় না মাথায় দেয় এ বিষয়ে যার নিজস্ব অভিজ্ঞতা নেই তাকে কারো নিকট জ্ঞান আহরণ করতে হবে। নয়তো বিশ্বাস রাখতে হবে।আর এও জানতে হবে নামলিপির একজন কারিগর থাকবেন।কারিগর একটি লিটল ম্যাগাজিনের নামলিপি দীর্ঘ ভাবনার পর রূপ দিতে হয়।তাকে যথেষ্ট সময় নিয়ে ভেবে একটি লিটল ম্যাগাজিনের নামলিপি তৈরী করে দেন কারিগর অর্থাৎ নামলিপির কারিগরি সহায়তা করতে পারেন শুধুমাত্র একজন প্রকৃত শিল্পী।এই বিষয়টি অবগত হতে দীর্ঘজার্নি প্রয়োজন। আবার দীর্ঘজার্নি যারা সেরে নিয়মিত লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ করেন তারা অবগত করতে পারেন নতুন সম্পাদককেও।যদি তা না করেন তাহলে বুঝবেন আপনি কারো দলদাসে পরিনত হচ্ছেন। তা আপনি অবগত হতে চাইছেন না বলেই আপনাকে দলদাস করতে সহজ।সে বিষয়টি ধূর্তরাজ বুঝে গেছেন।
আসুন প্রকৃত ভালোবাসা নিয়ে লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদকদের সহযোগিতা করতে আমরা পরস্পর সহযোগী হই।একজন একটি লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ করতে নতুনদের দীক্ষা পর্বেই যদি ভুল শিক্ষা দিয়ে নতুন সম্পাদককে ভুল পথে চালিয়ে দিই তাহলে নতুন সম্পাদক প্রতিবন্ধী শিশুর মতোই প্রতিবন্ধী একটি লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদক হয়ে ভূমিষ্ট করবেন একটি লিটল ম্যাগাজিন।
প্রচ্ছদ
একটি লিটল ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ বলতে ঝা চকচকে নিখুঁত কভার পেজ থাকতে হবে এমন নয় কিন্তু কভার পেজ থাকলে তাও একজন শিল্পীই এঁকে দেবেন।তা ছাপতেও খরচা হবে।বড় শিল্পীদের দিয়ে প্রচ্ছদ ভাবনানুরকম করাতে হলে নিশ্চিত ভাবেই শিল্পীকেও শ্রম ও ভাবনার অর্থমূল্য প্রদান করতে হবে। যদি সম্পাদকের নিজস্ব পরিচিত শিল্পীবন্ধু থাকেন তো ভাবনার অর্থমূল্য হয়তো লাগলো না কিন্তু ছাপতে তো খরচা হবেই।নয়তো এজন্যও একজন নতুন সম্পাদক প্রতিবন্ধী শিশুর জন্ম দিয়ে বসবেন।
এসব ছোটখাট বিষয়ে একজন নতুন সম্পাদক পরিচিত নাও থাকতে পারেন তখন তাকে সহযোগিতা দরকার। সহযোগিতা করা মানে দলদাস তৈরী করা নয়।বরং প্রকৃতপক্ষে সম্পাদককে শিক্ষিত করে দিতে হবে। একজন প্রকৃত লিটল ম্যাগাজিন বন্ধু হয়ে উঠতে হলে প্রকৃতপক্ষে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। সহযোগিতার নাম করে দলদাস তৈরী করা নয়।
দলদাস তৈরী করতে হলে আমার আলোচনার প্রথমপাঠ বিজ্ঞাপন হলেও সত্যি :আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন এই অংশই যথেষ্ট।
হ্যাঁ এরকমও একটি লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ করা সম্ভব। আবার প্রতিটি পর্বে পুষ্টি সরবরাহ করেও একটি লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ করা সম্ভব। একজন সহযোগী হিসেবে আপনি দলদাস বাড়াতে চাইলে লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদককে প্রথম উপদেশটুকুই দিন তাতে নতুন সম্পাদক খুশিতে ডগমগি করতে করতে কম খরচে দলদাস হয়ে আপনার গুণকীর্তন করবেন।আপনিও দলভারী করতে পারলেন হোক না তাতে অন্যের পাকাধানে মই তাতে কী।আপনি তো দলে পেলেন আপনার মতোই প্রতিবন্ধী পিতার তকমাধারী একজন দলদাস।
২৫:০১:২০২৪
রাত:০২টা১০মি
কুমারঘাট।
0 Comments